Sunday, 12 February 2017

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ১৫টি হার্বাল বিউটি টিপস!

হার্বাল রূপচর্চার সবই আপনার হাতের নাগালে–আপনার রান্নাঘরেই। এসব ব্যবহারে আপনি পাবেন দীর্ঘস্থায়ী ভালো ত্বকের নিশ্চয়তা। —



যেসব প্যাকেটজাত সৌন্দর্য সামগ্রী আমাদের উজ্জ্বল ত্বকের নিশ্চয়তা দেয় আমরা  অনেকেই তা একবার করে আমাদের মুখে পরীক্ষা করে দেখে থাকি। এই করতে গিয়ে আমাদের মুখের ত্বকের বারোটা বাজে।  আমরা প্রায়ই ভুলে যাই–উজ্জ্বল ত্বক আসলে সুস্থ ত্বকেরই বাইরের রূপ। দীর্ঘস্থায়ী উজ্জ্বল ত্বকের নিশ্চয়তা কেবল সুস্থ ত্বকই দিতে পারে, বাইরের ত্বক নয়। বাজারে চালু ত্বক ফর্সা করা ক্রিমগুলি আমাদের ত্বকের বাইরের অংশে কাজ করে। এগুলির রাসায়নিক উপাদান শেষ পর্যন্ত ত্বকের ক্ষতিই করে। রূপচর্চার জন্যে আমাদের হাতে যখন  হার্বাল বা ভেষজ উপাদানের মত বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে তখন কেন এসব রাসায়নিকের ব্যবহার! হার্বাল রূপচর্চার জন্য যা যা প্রয়োজন সব রয়েছে আপনার হাতের নাগালে–আপনার রান্নাঘরেই। এই জিনিসগুলি ব্যবহার করে আপনি পাবেন দীর্ঘস্থায়ী ভালো ত্বকের নিশ্চয়তা। খুব সহজে তৈরি করতে পারবেন এমন ১৫টি টিপস এখানে দেওয়া হচ্ছে।


১৫টি হার্বাল বিউটি টিপস



১: আঙুর






অনেক ক্ষেত্রেই ত্বকের স্বাভাবিকতা কমে গিয়ে ত্বকের ফর্সা ভাব ও উজ্জলতা কালচে হতে থাকে। বাহ্যিক ময়লা আবরনের স্তর এবং সূর্য রশ্নি দ্বারা ত্বকে কালচে ভাবের সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে ত্বক ফর্সা করতে আঙুরের রস দারুণ উপকারি। কয়েকটি আঙুর নিয়ে মুখে আলতোভাবে ঘষুন। আঙুর বেটে ফেসপ্যাক তৈরি করেও মুখে লাগাতে পারেন। ২: শসার রস, গ্লিসারিন ও গোলাপ জল




শশার রস। পরিমাণ মত শশার রসে মিশাতে হবে অল্প গ্লিসারিন আর গোলাপ জল


সূর্যের অতি বেগুনি রশ্নি ত্বক পুরিয়ে ফেলে। শসার রস, গ্লিসারিন ও গোলাপ জলের মিশ্রণ রোদে পোড়া ত্বকের জন্যে উপকারি। রোদে যাওয়ার আগে এবং বাসায় ফিরে এগুলি একসাথে মিশিয়ে মাখলে ত্বক উজ্জ্বল থাকবে। ৩: চন্দন, হলুদ ও দুধ




চন্দন (sandalwood)


বয়সের ছাপ, বিষন্নতা, অযত্ন, ত্বকে স্বাভাবিক আলো বাতাসের অভাবে, ত্বকের সতেজতা হ্রাস পায়। চন্দন গুড়ার সাথে সামান্য হলুদ গুড়া ও দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। ত্বক সতেজ আর সুন্দর করতে এই মিশ্রণটি বেশ কার্যকর। ৪: মধু ও দুধের সর




মধু। ছবি.



দুধের সরের সাথে মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক হবে নরম আর উজ্জ্বল। শীতকালে এই মিশ্রণটি আপনাকে ত্বক নিয়ে অনেকটাই নিরুদ্বেগ রাখবে। ৫: দুধ,লবণ ও লেবুর রস




দুধ।


প্রাত্যহিক কাজ কর্মের বিভিন্ন সময় ত্বকের ভাজে ভাজে ধূলাবালি ও ময়লা লেগে বাহ্যিক ময়লা আবরনের স্তর লোমকূপের মাধ্যেম টিস্যু/কোষে জমা হয়। ফলে ত্বকে অক্সিজেন প্রেবশ করেত পারে না। দুধের মধ্যে এক চিমটি লবণ আর লেবুর রস মেশান। এই মিশ্রণটি আপনার ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করবে। ৬: টমেটোর রস




টমেটো।


বাহ্যিক ধূলাবালি, ময়লা, সূর্যের তাপ ও অবেহলার কারনে ত্বকের স্বাভাবিক মসৃন ভাব কমে ত্বক রূক্ষ হয়ে যায়। ত্বক নরম করতে টমেটোর রস খুবই কার্যকরী। টমেটোর রসের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে নিয়মিত ত্বকে লাগালে ভালো ফল পাবেন। ৭: হলুদ গুড়া, গম ও তিল




হলুদের গুড়া (Turmeric Powder)


অনেকের ত্বকের বিভিন্ন স্থানে অবাঞ্চিত বা অনাকাক্ষিত লোম থাকে। যা মুখের স্বাবাবিত সৌন্দর্য নষ্ট করে। হলুদের গুড়া,গমের ময়দা ও তিলের তেল একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে মাখুন। এই মিশ্রণটি আপনার ত্বককে অনাকাঙ্ক্ষিত লোমের হাত থেকে দূরে রাখবে। বাঁধাকপির রস ও মধু




বাঁধাকপির রস (Cabbage Juice)


একটা সময় সবারই বয়স বাড়তে থাকে, এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বকে বিভিন্ন বলিরেখার সৃষ্টি হয়। বাঁধাকপির রস ও মধু একসাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। বলিরেখা দূর করতে এই মিশ্রণ খুব উপকারী। ৯: গাজর




গাজরের রস (Carrot JUice)


ত্বকে অক্সিজেন এর অভাব হলে উজ্জ্বলতা হ্রাস পায়। ত্বকে ময়লা জমলে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না। গাজরের রস মুখে আনে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা। গাজরের রস নিয়মিত মুখে লাগালে ত্বক সতেজ থাকবে এবং উজ্জ্বলতা বাড়বে। ১০: মধু ও দারুচিনি




দারুচিনি (Cinnamon Sticks)


খাদ্যভ্যাস, ময়লা-ধূলাবালি, দুশ্চিন্তা, মানুষিক চাপ, নিদ্রাহীনতা, ধূমপান, মাদক এবং অতিরিক্ত ঘুমের অষুধ সেবনে মুখে ব্রণ হয়। তিন ভাগ মধু ও এক ভাগ দারুচিনির গুড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি ব্রণের উপর লাগান। সারারাত রেখে পরদিন ধুয়ে ফেলুন। এই পেস্টটি আপনার ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করবে। ১১: বাদাম ও লেবুর রস




বাদামের তেল (Peanuts oil)


শহরের যান্ত্রিক পরিবেশে পর্যাপ্ত পরিমান প্রাকৃতিক বাতাস এর অভাব রয়েছে। এর ফলে ব্রন ও ব্ল্যাকহেড এর সৃষ্টি হয়। বাদামের তেল ও লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। এই মিশ্রণটি ব্রণ ও ব্ল্যাকহেড দূর করবে আর ত্বককে রাখবে সতেজ ও সুন্দর। ১২: আ্যলোভেরার রস




অ্যলোভেরা।


ত্বকে পর্যাপ্ত পরিমান পানির অভাবে ত্বকের সজীবতা হ্রাস পায়। ত্বক সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে পানি আবশ্যক। আ্যলোভেরার রস মুখে লাগালে ত্বকের দাগ দূর হয়। আ্যলোভেরার রস ত্বকের পানিস্বল্পতা দূর করে লাবণ্য ফিরিয়ে আনে। ১৩: ঘি ও গ্লিসারিন




ঘি।


ানেকেই শরীরের বিভিন্ন স্থানের ত্বকের মসৃনতা বজায় রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু বাজারের ক্যামিক্যাল যুক্ত এবং বানিজ্যিক ভাবে বিক্রিত প্যাকেট জাক  দ্রব্য অনেকক্ষেত্রে বিপরীত প্রভাব ফেলে। ঘি ও গ্লিসারিনের মিশ্রণ খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার। রাসায়নিক ময়েশ্চারাইজারের বদলে এটি ব্যবহার করে দেখুন। তফাত নিজেই টের পাবেন। ১৪: মুলতানি মাটি, নিমপাতা, তুলসিপাতা, গোলাপ পাঁপড়ি এবং গোলাপ জল




মুলতানি মাটি।


মুলতানি মাটি, গোলাপের পাঁপড়ি, নিম পাতার গুঁড়া, তুলসি পাতার গুঁড়া সামান্য গোলাপ জল বা লেবু পাননির সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল থাকবে।


  ১৫: অ্যাপ্রিকট ও দই




অ্যাপ্রিকট।

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন অনিয়ম ও ত্বকের কোষে পানিশূন্যতা হলে ত্বক শুশ্ক হয়ে যায়। অ্যাপ্রিকট এবং দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ত্বক সতেজ রাখে। যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয় তাহলে এর সাথে মধু মিশিয়ে মুখে লাগান।

Wednesday, 8 February 2017

সব সময় প্রিয় সঙ্গীকে যে ৭টি কথা বলবেন

সম্পর্ক মানেই ভালোবাসা, দায়িত্ব আর যত্নআত্তি। সব মানুষের সম্পর্ক এমনই হয়। দম্পতিরা সুখী তখনই হন,
 যখন তাঁরা একে অন্যকে সম্মান করেন, সহযোগিতা করেন আর দোষ স্বীকার করতে জানেন।
 দাম্পত্য জীবনে সুখে থাকতে চাইলে আরো একটি বিষয়ে আপনাকে নজর দিতে হবে, সেটি হলো
কয়েকটি বাক্য। এই বাক্যগুলো প্রতিদিন বললে আপনাদের সম্পর্ক সারা জীবনই নতুন থাকবে।
জানতে চান বাক্যগুলো কী কী? তাহলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এই তালিকা একবার দেখে নিতে পারেন।

‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’
আপনি অবশ্যই আপনার সঙ্গীকে ভালোবাসেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাহলে বারবার বলতে আপত্তি কী?
 প্রতিদিনই সঙ্গীকে একবার জড়িয়ে ধরে বলুন, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ দেখবেন, এই কথা বলার
 সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের ভালোবাসা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
‘বিষয়টা আমরা সামলে নেব’
জীবনে সুখের সঙ্গে দুঃখ থাকবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। সমস্যা কখনো বলে-কয়ে আসে না। তাই একে অন্যকে
 দোষ দিয়ে লাভ নেই; বরং বিপদে পড়লে বলবেন, ‘চিন্তা করো না। বিষয়টা আমরা সামলে নেব।’
মনে রাখবেন, সংসারজীবনে আপনারা দুজন মিলে একটি দল। এখানে ভালো-মন্দ একসঙ্গেই সমাধান করতে হবে।
‘তুমি যা বলেছ আমি শুনেছি’
বেশির ভাগ সঙ্গীরই অভিযোগ থাকে, ‘আমার কথা সে মন দিয়ে শোনে না।’ কোনো বিষয়েই সঙ্গীকে অবহেলা
 করা ঠিক নয়; বরং কোনো কিছু বলার পর আপনার বলা উচিত, ‘তুমি যা বলেছ আমি শুনেছি ।
’কথাটি মানবেন কি মানবেন না, সেটা পরের বিষয়। আগে সঙ্গীকে অনুভব করতে দিন যে আপনি তাঁকে
 অবহেলা করেন না।
‘আমি তোমার জন্য পাগল’
সম্পর্কে পাগলামি না থাকলে তাতে কোনো প্রাণ থাকে না। বিয়ে হয়েছে তো কী হয়েছে? সারা দিনের ব্যস্ততার
পর সঙ্গীকে যদি বলেন ‘আমি তোমার জন্য পাগল’, দেখবেন, সে সব কষ্ট ভুলে যাবে। প্রতিদিনই সে নতুন করে
 আপনাকে ভালোবাসবে।
‘তোমাকে ধন্যবাদ’
পৃথিবীর সবাইকে কোনো না কোনো কাজের জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকি।
অথচ যে সঙ্গী আপনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, আপনার দুঃখের সময় পাশে থাকছে,
আপনাকে প্রতিমুহূর্তে সাহায্য করছে, তাকে তো একবারের জন্যও ধন্যবাদ বলছেন না! এখন প্রতিটি
কাজের জন্য তো আর ধন্যবাদ বলা সম্ভব নয়। তাই বিশেষ বিশেষ কাজে অবশ্যই সঙ্গীকে ধন্যবাদ জানান।
‘আই অ্যাম রিয়েলি সরি’
অনেক সময় ইগোর কারণে আমরা নিজেদের ভুল স্বীকার করি না। এ কারণে দিন দিন সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
সঙ্গীর কাছে ছোট বা নত হওয়ার কিছু নেই। যেকোনো ভুলের জন্য তাঁকে বলাই যায়, ‘আই অ্যাম রিয়েলি সরি’
, তাহলেই দেখবেন অনেক বড় সমস্যা আর হচ্ছেই না!
‘তুমি এগিয়ে যাও’
প্রত্যেক মানুষেরই ক্যারিয়ার নিয়ে স্বপ্ন থাকে। সেখানে পরিবারের সহযোগিতা থাকা খুবই জরুরি।
 তাই সঙ্গী যদি ক্যারিয়ারের কোনো বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন, তাহলে তাঁকে সাহস দিন। ভালো কিছু করার
 জন্য সব সময় বলবেন, ‘তুমি এগিয়ে যাও।’

শীতে ছেলেদের ত্বকের যত্ন

 
 মডেল : shakil ahmed
শীতে ছেলেদের ত্বকের যত্ন,
শীতে ছেলেদের ত্বক হয় অনেক বেশি রুক্ষ; বিশেষ করে গোসলের পর ত্বক হয় খসখসে। এই শুষ্ক ত্বক থেকে মুক্তি পেতে হলে সঠিকভাবে এর যত্ন নেওয়া চাই। কারণ, ত্বকের যত্ন ঠিকভাবে না নিলে চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে পারে এবং চামড়া শুষ্ক হয়ে যায়।
এ বিষয়ে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের অধ্যাপক আফজালুল করিম বলেন, বাজারে ছেলেদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ও লোশন রয়েছে। কিন্তু যাচাইবাছাই করে ভালো মানের ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। কারণ, প্রসাধনী ভালো মানের না হলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। ছেলেদের ত্বকের যত্নে তাঁর পরামর্শ হলো—
 খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না। অল্প সময় নিয়ে কুসুম গরম পানিতে গোসল করতে হবে।
 ক্রিম, লোশন, সাবান—সব ধরনের প্রসাধনীই বাড়তি ময়েশ্চারাইজারযুক্ত হতে হবে।
 শেভ করার পর ক্রিম লাগানো উচিত। তাহলে ত্বকে ফাটল ধরবে না।
 যাঁদের রোদে বেশি থাকা হয়, তাঁরা সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন।
 গোসলের পর লোশন লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। সেটি যেন ত্বকে ভালোভাবে মিশে যায়। তারপর বাইরে বেরোতে হবে।
তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বেশি ওঠে। এ ছাড়া ধুলাবালুর কারণে ছেলেদের ত্বক পরিষ্কার করতে হয় বারবার। এ প্রসঙ্গে পারসোনা অ্যাডামসের শাখা ব্যবস্থাপক মো. মাসুম বিল্লাহ খান বলেন, ছেলেদের অয়েল কন্ট্রোল ফেসওয়াশ (ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণে রাখে এমন) ব্যবহার করা উচিত। তাহলে ত্বক ভালো থাকবে। তিনি আরও বলেন, বাজারে ছেলেদের জন্য নানা ব্র্যান্ডের যেসব ক্রিম পাওয়া যায়, সেগুলো ব্যবহার করার আগে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। তা নাহলে ক্রিম কাজ করবে না। এ ছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে ম্যাসাজ ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বক ঠান্ডা থাকে এবং ব্রণ ওঠে না। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। যদি রোদে বেশি থাকা হয়, তাহলে সানস্ক্রিন লাগিয়ে ঘর থেকে বের হওয়াই ভালো। অবসর পেলে ভেষজ কোনো প্যাক লাগানো যেতে পারে। যাঁরা প্যাক লাগাতে চান না, তাঁরা কমলালেবু কিংবা পাকা টমেটো মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। এতে ত্বক পরিষ্কার হবে। ত্বকের যত্নের জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এ ছাড়া যতটা সম্ভব কম রাত জাগা উচিত; সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে প্রতিবেলাতেই শাকসবজি রাখতে হবে। ফল খেতে হবে এবং শুকনো খাবার যতটা সম্ভব কম খেতে হবে। ত্বকের যত্নের জন্য মাসে দুবার ফেসিয়াল করা যেতে পারে।

সানস্ক্রিন ও পুরুষদের বন্ধ্যত্ব

সানস্ক্রিন লোশন পুরুষদের বন্ধ্যত্বে ভূমিকা রাখে।সাম্প্রতিক এক গবেষণায় গবেষকরা সানস্ক্রিনে এমন কিছু উপাদান খুঁজে পেয়েছেন, যা শুক্রাণুর কোষের কার্যাবলীকে ব্যাহত করতে পারে।

ডেনমার্কভিত্তিক এই গবেষণায় বলা হয়, সূর্যের অনেক অতি বেগুনি রশ্মি (ইউভি) সানস্ক্রিনে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ ফিল্টারিং করে, যা মানুষের শুক্রাণুর কোষের কার্যাবলী ব্যাহত করে। তাছাড়া, এটি নারী দেহের হরমোন প্রজেস্টেরনেও প্রভাব ফেলে।

পেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক নেইলস স্কাকিবায়েক বলেন, গবেষণার এই ফলাফল উদ্বেগজনক।
অব্যাখ্যাকৃত বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে এটি ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। রাসায়নিক ইউভি ফিল্টারের কাজ হচ্ছে, ত্বকে সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুন রশ্মির প্রভাব কমানো। কিছু ইউভি ফিল্টার ত্বকের মাধ্যমে দ্রুত শোষণ করে নেয়। মানুষের রক্তের নমুনায় ইউভি রাসায়নিক ফিল্টারের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং অন্যান্য দেশে প্রস্রাবের নমুনায় ৯৫ শতাংশ পাওয়া গেছে।

ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যার সমাধান

ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে শীত ও আবার ঘুরে চলে এল। আর এর সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় ত্বক ও চুলের যত সমস্যা। অনেকেই মনে করেন ছেলেদের রূপচর্চার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু শীতের শুরুতে তাদের ত্বকেরও অনেক সমস্যা শুরু হয়। চুল ভাঙ্গা, রুক্ষ ও চিটচিটে হয়ে যাওয়া, র‍্যাশ, ত্বকের শুষ্কতা, ঠোঁট ফাটা, পায়ের গোড়ালী ফাটা আরও কত কি। সাধারণত হঠাৎ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বকের সহনশীলতা বদলে যায় ফলে এই সব সমস্যাগুলো হয়ে থাকে। তাই আজ আমরা এই শীতে ছেলেদের ত্বকের ও চুলের কিছু সাধারন সমস্যা নিয়ে কথা বলব এবং এ থেকে মুক্তির উপায় আলোচনা করব।

ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যার সমাধান

ছেলেদের ত্বক এবং চুলের সমস্যার সমাধান-
ত্বক-শীতে আপনার ত্বকের সবচেয়ে বড় একটি সমস্যা হচ্ছে শুষ্কতা। মুখ ধোয়ার পরে তো এটি এত টানটান হয়ে থাকে যা খুবই আস্বস্থিকর। ক্রিম লাগানোর কিছুক্ষন পর্যন্ত ভালো থাকলেও কিছুক্ষন পর অতিরিক্ত তেল চিটচিটে হয়ে যায়। ফলে বারবার মুখ ধুতে হয়। তাই এ সময় এর চাই একটু অতিরিক্ত যত্ন। ত্বকের শুষ্কতা কমাতে প্রতিদিন সকালে ও রাতে মশ্চারাইজার যুক্ত ক্রীম ব্যাবহার করুন। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে ১/৪ কাপ দুধ এ ১ চামুচ মধু ও ১ চামুচ এলোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার ত্বকের শুষ্কতা তো কমবেই তার সাথে আপনার মুখ হয়ে উঠবে আরো কোমল ও উজ্জ্বল।
চুল-শীত কালে অনেকেরই চুল রুক্ষ হয়ে যায় এবং চুলে এক ধরনের চিটচিটে ভাব চলে আসে। এর ফলে অনেক সময় চুলের আগা ফেটে যায়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে শীতের রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুলে নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল গরম করে ম্যাসাজ করে নিতে পারেন। একটি স্টীলের বাটিতে নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল নিয়ে নিন। এবার একটা কাচা আমলকী কেটে এর সাথে মিশিয়ে নিন। এবার এটাকে চুলার উপর একটা কাপড় দিয়ে ধরে কিছুক্ষন গরম করে নিন। কিছুক্ষন রেখে গিয়ে কুসুম গরম থাকতে চুলের আগায় ও গোড়ায় ভালো করে আঙ্গুল দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তেল ম্যাসাজ নিন। মনে রাখবেন কখনোই খুব গরম তেল চুলে লাগাবেন না। এতে চুল পরে যেতের পারে। সারা রাত চুলে তেলের উপস্থিতিতে চুলের রুক্ষ ভাব কেটে যাবে এবং চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে উজ্জ্বল।
র‍্যাশ-শীতে ত্বকের আরেকটা সমস্যা হচ্ছে র‍্যাশ। অনেক সময় শরীরে লাল, ছোট ছোট ফুসকুনির মত হয়ে থাকে। এগুলো সাধারণত শীতকালে ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমন ও উলের পোশাক পরার কারনে হয়ে থাকে। এগুলো শরীরে চুলকানি ও অস্বস্থিকর অবস্থা তৈরী করে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন গোসলের পানিটাকে একটু ফুটিয়ে হালকা গরম পানি দিয়েই গোসল করুন। এছাড়া পানির ব্যাক্টেরিয়া দূর করার জন্য এন্টিসেপ্টিক জাতীয় কোনো লিকুইড মিশিয়ে নিতে পারেন। সবসময় উষ্ণ থাকার চেষ্টা করুন। উলের কাপড় পরার সময় অবশ্যই তার নিচে সুতি অথবা অন্য পাতলা এবং আরামদায়ক কাপড়ের কিছু পরে নিবেন।
পা-শীতের দিনে আরেকটা কমন সমস্যা হচ্ছে পায়ের গোড়ালী ফেটে যাওয়া। এ থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অবশ্যই পায়ে পেট্রোলিয়াম জেলী লাগিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া প্রতিদিন গোসলের সময় শক্ত কিছু দিয়ে পায়ের গোড়ালীটা একটু ঘষে নিতে পারেন। এতে মৃত কোষগুলো বের হয়ে যাবে। এছাড়া নিয়মিত মশ্চারাইজার যুক্ত লোশন ব্যাবহার করুন। এতে করে হাত পায়ের খসখসে ভাব থাকে না।

স্বল্প পরিচয়ে ব্যক্তিত্ববান মানুষের আচরণ

আপনি কতটা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ তা প্রকাশ পায় আপনার আচরণে। আপনি কীভাবে কথা বলেন, অন্যকে কতটা শ্রদ্ধার চোখে দেখেন, অন্যের প্রাইভেসিকে কতটা মূল্য দেন তার উপর অনেকটাই নির্ভর করে আপনার ভাবমূর্তি। আপনি যখন নতুন একজন মানুষের সাথে পরিচিত হচ্ছেন তখন খেয়াল রাখুন নিজেকে কীভাবে তার সামনে প্রকাশ করছেন। তাই জেনে নিন কোন প্রশ্নগুলো স্বল্প পরিচয়ে কখনোই করবেন না।
স্বল্প পরিচয়ে ব্যক্তিত্ববান মানুষের আচরণ –

স্বল্প পরিচয়ে ব্যক্তিত্ববান মানুষের আচরণ

 
আপনি কি বিবাহিত/সিঙ্গেল?
একজন মানুষ বিবাহিত কিনা, কারও সাথে সম্পর্কে আছেন কিনা এটি খুবই উদ্দেশ্যমূলক প্রশ্ন। আপনি যাকে প্রশ্নটি করছেন, এই প্রশ্নের সাথে সাথেই তিনি আপনাকে একজন সুবিধাভোগী, স্বার্থান্বেষি মানুষ হিসেবে বিবেচনা করবেন। তাই অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন করতে সময় নিন।
কে ফোন করেছে?
কিছুক্ষণের পরিচয় হোক আর কিছুদিনের, যখন মানুষটি আপনার ঘনিষ্ঠ নয় তখন আপনি কোনভাবেই তাকে প্রশ্ন করতে পারেন না ফোনের ওপাশে কে ছিল। এটি খুবই বিরক্তিকর এবং অনধিকারচর্চা। সামনের মানুষটি আপনাকে একজন কর্তৃত্বপরায়ণ মানুষ হিসেবে ধরে নিতে পারেন। অথবা তিনি ভাবতে পারেন আপনি সম্পর্কের গন্ডি বোঝেন না।
বাসায় কে রান্না করে?
আমাদের দেশে একটি অতি সাধারণ প্রশ্ন, ‘বাসায় কে রান্না করে?’ আপনি যখন বন্ধুর মত কাছের একজন তখন প্রশ্ন করতেই পারেন। কারণ তখন আপনারা হয়ত আরও অনেক কিছুই শেয়ার করেন, তাই এটা কোন ব্যাপার না। কিন্তু যখন আপনি মাত্র কারও সাথে পরিচিত হলেন তখন এই প্রশ্ন মানে হচ্ছে আপনি কৌশলে জেনে নিতে চাইছেন, তিনি সংসার করতে পারদর্শী কিনা।
আপনার স্ত্রী বা স্বামী কী করেন?
এটিও একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন। আপনি যাকে প্রশ্ন করছেন সে হয়ত আপনার সহপাঠী অথবা সহকর্মী। আপনি যে কাজে তার সাথে সম্পৃক্ত শুধু সে বিষয়েই নিজের আলোচনা সিমাবদ্ধ রাখুন।
আপনাদের সম্পর্ক কেমন?
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন এটা জানার অধিকার তারা কাদেরকে দেবেন সেটা তারা নির্ধারণ করবেন। আপনি বাইরে থেকে জানতে চাইতে পারেন না। ঠাট্টাচ্ছলেও স্বল্পপরিচয়ে কোন মানুষকে তার পারিবারিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা উচিৎ নয়।
আপনার আয় কত?
এটি আরেকটি প্রশ্ন যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচিত হতে পারে। নিজের সীমা বুঝুন। সেই অনুযায়ী অন্যকে জানুন, প্রশ্ন করুন। অযাচিত প্রশ্ন করে অপমানিত হবেন না। আত্মনিয়ন্ত্রণ শিখুন, চর্চা করুন।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার সহজ উপায়

স্মৃতি হল এমন একটি স্থান যেখানে মস্তিষ্ক সব রকম তথ্য জমা রাখে এবং তা সময় সময় মনে করিয়ে দেয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের স্মৃতি হ্রাস পেতে থাকে। ছোট ছোট বিষয় যেমন চাবি রিঙ কোথায় রেখেছেন, মানুষের নাম, ফোন নাম্বার ইত্যাদি ভুলে যাই আমরা। হাজার চেষ্টা করে তা মনে করা যায় না। যদিও এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু কিছু উপায়ে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করা সম্ভব।
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার সহজ উপায়-

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার সহজ উপায়

১। শারীরিক পরিশ্রম করা
শারীরিক পরিশ্রম শুধুমাত্র আপনাকে ফিট রাখতে সাহায্য করবে না, এটি আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। এর জন্য আপনাকে অনেক কায়িক পরিশ্রম করার প্রয়োজন পড়বে না। সাধারণ হাঁটা, মর্নিং ওয়াক, দৌড়ানো, অথবা সাইক্লিং এর মত ব্যায়ামও আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
২। মানসিক পরিশ্রম
Stanford University এক গবেষণায় দেখেছেন যে, ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত মেমরি লস হ্রাস করা সম্ভব শুধু মাত্র মানসিক পরিশ্রম যেমন দাবা খেলা, গোলক ধাঁধার সমাধান, বই বা খবরের কাগজ পড়ে অথবা নতুন কোন ভাষা শেখার মাধ্যমে।
৩। মনযোগ দিন আট সেকেন্ড
বর্তমান এই সময়ে আমরা সব কাজ অনেক দ্রুত করার চেষ্টা করি। দ্রুত পড়ি, দ্রুত দেখি, এবং দ্রুত ভুলে যাই। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে কোন কিছু মনে রাখতে চাইলে কমপক্ষে আট সেকেন্ড সেটিতে মনোযোগ দিন। এটি দীর্ঘদিন আপনার মস্তিষ্কে জমা থাকবে। আট সেকেন্ড স্বল্প সময়ের স্মৃতিকে দীর্ঘমেয়াদী করতে সাহায্য করে।
৪। চুইংগাম
চুইংগাম সরাসরি স্মৃতি বৃদ্ধি না করলেও এটি যেকোন কাজে মনোযোগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। শুধুমাত্র চুইংগাম চিবানো ১০% মনোযোগ বৃদ্ধি করে আর দশজন সাধারণ মানুষের থেকে। ২০০২ এবং ২০০৪ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কোন কিছু শোনার সময় চুইংগাম চিবায় তাদের দীর্ঘসময় মনে থাকে।
৫। ক্যাফিন
ক্যাফিনের উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে বির্তক থাকলেও, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিকে এটি প্রভাবিত করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ক্যাফিন স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি বৃদ্ধি করে এবং মহিলাদের মেমরি লস হওয়া হ্রাস করে থাকে।
৬। গভীরভাবে পর্যাবেক্ষণ করা
যেটি মনে রাখতে চান, তা হতে পারে চাবির রিঙ, অথবা কারোর ফোন নম্বার কিংবা কারোর নাম। সেটি খুব মনোযোগ দিয়ে শুনুন, দেখুন। চাবির রিঙের রঙটা খেয়াল করুন, নামটা ভাল করে শুনুন। মনে মনে কয়েকবার নামটা নিজেকে বলুন। দেখবেন এটি দীর্ঘসময় আপনার স্মৃতিতে থাকছে।
৭। পর্যাপ্ত ঘুম
সারাদিনের পরিশ্রমের পর আমাদের শরীরে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। ঘুমের একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করে নিন। এবং সেই নিয়মে ঘুমাতে যান ও ঘুমতে উঠুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমান।

কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ৭ টি উপায়

কর্মক্ষেত্রে আপনার পার্ফরমেন্স কি দিনে দিনে লোপ পাচ্ছে? আপনি কি আগের মত মনোযোগ দিতে পারছেন না? সারাদিনই পরিশ্রম করছেন কিন্তু দিন শেষে দেখছেন, কাজে ভুল রয়েই যাচ্ছে? আপনার কর্মক্ষমতা কি হ্রাস পাচ্ছে? দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পার্ফরমেন্স কোন মানুষেরই সবসময় একরকম থাকে না। হারানো কর্মক্ষমতা ফিরে পাওয়া সম্ভব।
আসুন জেনে নিই, মনোবিজ্ঞানীরা কী বলছেন এব্যাপারে। মনোবিজ্ঞানী সুসান কে পেরি পিএইচডি বলেছেন কীভাবে ৭টি উপায়ে বাড়াবেন কর্মক্ষমতা।
কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ৭ টি উপায়-

কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ৭ টি উপায়

১। জরুরী কাজে কম সময় ব্যয় করুন
নিজেকে নিজেই একটি ডেডলাইন দিন। কাজটি জরুরী, কিন্তু সময় আছে বলে যদি ফেলে রাখেন তাহলে শেষ মুহুর্তেও দেখা যাবে অনেক কাজ বাকি। তখন তাড়াহুড়া করে কাজ করলে ভাল হবে না কাজটি। তাই অযথা সময় ব্যয় করবেন না। তার চেয়ে বরং সময় বেঁধে দিন নিজেকে। প্রতিদিন আপনার জরুরী কাজগুলো নির্দিষ্ট করুন, একটা টার্গেট ঠিক করুন কতটা সময়ের মধ্যে কাজগুলো শেষ করবেন। এতে আপনার কাজের গতি বাড়বে, কাজও ভাল হবে।
 
২। নিজের সর্বোচ্চ সহ্য ক্ষমতা ব্যবহার করুন
প্রতিদিন নিজের পরিশ্রম করার ক্ষমতাকে বাড়ানোর চেষ্টা করুন। আরেকটু বেশী কাজ দিন নিজেকে। অল্প অল্প করে বাড়ান। আজ অনেক ক্লান্ত? রোজকার ব্যায়ামটা আর করবেন না। না। এভাবে অভ্যাসটা বদলাবেন না। একদিনের ছাড় আপনাকে আরও অনেকদিন ছাড় দিতে বাধ্য করবে। বরং ১ ঘন্টার জায়গায় ৩০ মিনিট করুন। কিন্তু কাজটা অবশ্যই করুন।
৩। সব কিছু গুছিয়ে নিন
আপনি যখন কোন কাজে বসেন ভেতরে ভেতরে কি তাড়া বোধ করেন যেন কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হয় নি? একটা কাজের ফাঁকে কি এমন ছোট ছোট টুকুটাকি কিন্তু জরুরী কাজেরা আপনাকে উদ্বিগ্ন করে? এসব কাজের একটা লিস্ট করে ফেলুন। একদিন সময় নিয়ে গুছিয়ে করে ফেলুন কাজগুলো। অথবা সেগুলো এমন পর্যায়ে নিয়ে আসুন যাতে করা খুব সহজ হয়। জরুরী বড় কাজের মাঝে মনোযোগ নষ্ট করতে দেবেন না এই কাজগুলোকে।
৪। ক্যাফেইন গ্রহণ করুন
ক্যাফেইন গ্রহণ কিন্তু পরিমাণ মত হলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ নয়। ক্যাফেইন শরীরে শক্তি জোগায়। আপনি অবশ্যই কফি আসক্ত একজন মানুষে পরিণত করবেন না নিজেকে। কিন্তু কিছু বিশেষ কাজের আগে নিজেকে তরতাজা করতে ক্যাফেইন গ্রহণ করুন।
৫। সরাসরি ‘না’ বলুন
নতুন কোন কাজ যদি আসে তাহলে খেয়াল করে দেখুন সেটা আপনার ১-১০ এর মধ্যে জরুরী কাজগুলোর সাথে কোন বিপত্তি তৈরি করে কিনা! অথবা বাড়তি প্রেসার তৈরি করে কিনা। কোন সমস্যা না থাকলে কাজটি গ্রহণ করুন। নাহলে বাদ দিন। কারণ একটি বাড়তি কাজ আপনার দরকারি কাজগুলোর মান খারাপ করতে পারে।
৬। অমনোযোগের সাথে মেইল পড়বেন না
আপনার মেইলে অবশ্যই কোন গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ রয়েছে আপনার জন্য। যখন পড়বেন অবশ্যই তার রিপ্লাই দেবেন বা দরকারি পদক্ষেপ নেবেন। যদি তা না করতে চান, যদি এতটাই অবসাদ বোধ করেন তাহলে পরে পড়ুন। অযথা সময় নষ্ট করবেন না।
৭। নিজের ভবিষ্যতকে একটা চিঠি লিখুন
নিজেকে ভবিষ্যতে কোন অবস্থানে দেখতে চান আপনি? তাকে জানান তার জন্যই করছেন কাজগুলো। অনেক অপছন্দের কাজ সহজ হয়ে যাবে করা।

মধু-পানি পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা

আদিকাল থেকে ওষুধ হিসেবে মধু সুপরিচিত। ঠান্ডা কাশি সারানো থেকে শুরু করে কাঁটাছেড়া সারিয়ে তুলতে মধুর জুড়ি নেই। অনেকের অভ্যাস সকালে মধু পানি পান করা। এই একগ্লাস মধু পানি আপনার শরীর ও স্বাস্থ্যের ওপর ফেলবে চমৎকার প্রভাব। জানতে চান এর স্বাস্থ্য উপকারিতা? আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক মধু পানি পানের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো।
মধু-পানি পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা-

মধু-পানি পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা

১। ওজন হ্রাস করতে
ওজন কমাতে মধু পানি জাদুর মত কাজ করে।  প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস কসুম গরম পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এবার এটি পান করুন। এর সাথে আপনি চাইলে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি আপনার পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করবে।
২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
প্রতিদিন এক গ্লাস মধু পানি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে সবল রাখে এবং যেকোন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।
৩। অ্যালার্জি দূর করে
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মধু পানি পানে দেহের পোলেন অংশগুলো যেখানে অ্যালার্জি রয়েছে সেসকল স্থানে এক ধরণের প্রতিরক্ষা পর্দা সৃষ্টি করে যা অ্যালার্জির যন্ত্রণা দূর করে দেয়।
৪। হজমশক্তি বৃদ্ধি করে
মধুতে এনজাইম আছে যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে। যদি আপনার হজমে সমস্যা থাকে তবে খাওয়ার পর এক গ্লাস কুসুম গরম মধু পানি পান করুন, দেখবেন হজমের সমস্যা দূর হয়ে গেছে।
৫। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
দারুচিনি এবং মধুর মিশ্রণ হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এটি রক্তে কোলেস্টে্রলের মাত্রা ১০% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মধু এবং এক চামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন।
৬। কোষ্টকাঠিন্য প্রতিরোধে
শরীরে পানির অভাব দেখা দিলে কোষ্টকাঠিন্য দেখা দেয়। এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মধু মিশিয়ে পান করুন। এটি সকালে খালি পেটে একবার এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একবার পান করুন। এটি আপনার কোষ্টকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে।
৭। এনার্জি বৃদ্ধিতে
দুর্বলতা অনুভব করছেন? তাহলে তাৎক্ষনিক এক গ্লাস মধু পানি পান করুন। শরীরে চিনির মাত্রা কমে গেলে দুর্বলতা অনুভব হয়। মধু পানি শরীরে পানির পরিমাণ বজায় রেখে শরীরের এনার্জি বৃদ্ধি করে।

মজাদার চাইনিজ চিলি পটেটো রেসিপি

চাইনিজ রেস্তোরাঁয় গেলে চিকেন চিলি অথবা চিলি বিফ প্রায় সব মানুষই অর্ডার করে থাকেন। ফ্রাইড রাইসের সাথে চিকেন চিলি অথবা চিলি বিফ খেতে বেশ ভালই লাগে। হয়তো আপনার গরুর মাংসে অ্যালার্জি অথবা মুরগি মাংস আপনি পছন্দ করেন না, তখন কী করবেন? মজাদার এই খাবারটি কি তাহলে খাওয়া বন্ধ থাকবে? একদমই না। মজাদার এই খাবারটি আপনি রান্না করে ফেলুন আলু দিয়ে। কীভাবে? জেনে নিন তাহলে রেসিপিটি।
মজাদার চাইনিজ চিলি পটেটো রেসিপি –

মজাদার চাইনিজ চিলি পটেটো রেসিপি

উপকরণ:
আলু
লবণ
কর্ণ ফ্লাওয়ার
তেল
রসুন
কাঁচা মরিচ
আদা রসুনের পেস্ট
পেঁয়াজের রিঙ
ক্যাপসিকাম
মরিচের গুঁড়ো
সয়াসস
চিনি
ভিনেগার
চিলি সস
প্রণালী:
১। আলু কিছুটা মোটা করে কাটুন। তারপর এটি ভাল করে ধুয়ে লবণ এবং কর্ণ ফ্লাওয়ার দিয়ে ভাল করে মেশান।
২। একটি প্যানে তেল গরম করতে দিন। তেল গরম হয়ে আসলে এতে আলুগুলো দিয়ে ভাজুন। বাদামী রং হয়ে আসলে নামিয়ে ফেলুন।
৩। আরেকটি প্যানে তেলে রসুন কুচি, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজের রিঙ, ক্যাপসিকাম কুচি দিয়ে ভাজুন।
৪। এরসাথে মরিচের গুঁড়ো, সয়াসস, চিনি, ভিনেগার, লবণ এবং চিলি সস দিয়ে নাড়ুন।
৫। এবার এতে ভাজা আলুগুলো দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ নাড়ুন।
৬। ব্যস তৈরি হয়ে গেল মজাদার চিলি পটেটো।
৭। ফ্রাইড রাইস অথবা পোলাও এর সাথে পরিবেশন করুন চিলি পটেটো।

কেন পোশাকের রঙয়ের কথা মাথায় রাখবেন

ফ্যাশনে বা স্টাইলে রঙ অনেক জরুরি বিষয়। তাই আমাদের হাল ফ্যাশনে কি ধরণের পোশাক পরছেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পোশাকের রঙ। একজন ব্যক্তি ফ্যাশনের ক্ষেত্রে কতটা সচেতন তা কিন্তু তার পোশাকের রঙের উপরেই নির্ভর করে। আপনার ব্যক্তিত্ব বহন করে আপনার পোশাকের রঙ। তাই জেনে নিন কোন অনুষ্ঠানে কি রঙের জামা আপনাকে বেশি মানাবে।

কেন পোশাকের রঙয়ের কথা মাথায় রাখবেন

কেন পোশাকের রঙয়ের কথা মাথায় রাখবেন-
১. ফ্যামিলি পার্টিতে একটু তুলনামূলক উজ্জ্বল রঙের পোশাকই আপনাকে বেশি ভাল মানাবে। গ্রীষ্ম কালে রাতে অনুষ্ঠান থাকলে হালকা রঙের পোশাক আপনারে বেশি ভাল মানাবে। এক্ষেত্রে হালকা মেরুণ, গাঢ় আকাশী, ম্যাজেন্ডা, সিলভার, বটল গ্রিন, ডিপ পিঙ্ক রঙের পোশাক এক্ষেত্রে পরতে পারেন।
২. বাইরে বেড়াতে গেলে সাধারণত সেখানে অবশ্যই বেশ কিছুদিন কাটাবেন। তাই এক্ষেত্রে একেবারে হালকা রঙের পোষাকই সবচেয়ে উপযোগী। এছাড়াও বাইরে ঘুরতে বেড়িয়ে যদি হালকা রঙের পোশাক পরেন তবে এতে আপনাকে অনেক সতেজ ও প্রাণবন্ত বলে মনে হবে।
৩. অফিস যাওয়া মানেই যাতায়ের ঝক্কি। তাই এক্ষেত্রেও হালকা রঙের পোশাকই ভাল। কারণ গরম আবহাওয়া আপনাকে বিধ্বস্ত করে তুলতে পারে৷ সেক্ষেত্রে সাদা, আকাশী, ঘিরে, হালকা গোলাপী, ইত্যাদি রঙকে বেশি প্রাধান্য দিন৷ অফিসে ফরমাল পোশাক পরতে হলেও সেক্ষেত্রেও এই রংগুলো হতে পারে আইডিয়াল।
৪. কলেজ ক্যামপাস মানেই ছাত্র ছাত্রীদের ফরমাল পোশাক পরতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যাম্পাসে সময় থাকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। তাই হালকা রঙের পোশাক পরলে এক্ষত্রে আপনাকে যেমন মানাবে তেমনই আপনি আরামও বোধ করবেন। এক্ষেত্রে হালকা সবুজ,সাদা, ছাই, গোলাপী, ঘিরে রঙের পোশাক পড়তে পারেন৷ হালকা রঙের পোশাক পরলে গরম আবহাওয়া হলেও আপনার গরমে অস্বস্তি কম অনুভব হবে।
৫. তরুণ প্রজন্মের কাছে আড্ডা মারা মানেই একটি উৎসবের মত।  কিন্তু আড্ডা মূলত সন্ধ্যাবেলাতেই জমে। তাই সেক্ষেত্রে একটু উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা যেতেই পারে। তবে সাদা বা ক্রিম রঙও হতে পারে আইডিয়াল। এছাড়াও তুতে, হলুদ, হালকা সবুজ, বাদামী রঙের পোশাক বেশ ভাল মানায়।
অন্যান্য টিপস:
১. গায়ের রং, উচ্চতা ও ওজনের সঙ্গে মানানসই পোশাক পরুন।
২. অনেকের থাই মোটা হতে পারে সেক্ষেত্রে টাইট সেলোয়ার না পরে পাতিয়ালা ব্যবহার করতে পারেন৷ লেগিংস এড়িয়ে চলতে পারেন।
৩. যাদের হাত মোটা তারা হাতা লং বা থ্রি কোয়ার্টার স্লিভ জামা পড়ুন। স্লিভ লেস বা ছোট হাতা একেবারেই পরবেন না।
৪. আপনার শরীরের গড়ন মোটা হলে শাড়িতে কুঁচি কম দিয়ে আঁচল বড় রাখুন। চেহারা স্লিম হলে শাড়িতে সরু করে অনেকগুলো কুঁচি দিয়ে পরুন।
৫. যারা মোটা তারা ব্লাউজের ক্ষেত্রে ছোট প্রিন্ট বা স্ট্রেট চেক কাটের থ্রি-কোয়ার্টার ব্লাউজ পরুন।
৬. যাদের কাঁধ চওড়া তারা ব্লাউজ বা চুড়িদারে ভি শেপের গলা দিতে পারেন। এতে আপনাকে বেশি মোটা বলে মনে হবে না।

মেকওভারের খুঁটিনাটি

“মেকওভার”– শব্দটি দিনে দিনে আমাদের তথাকথিত ফ্যাশনপ্রেমীদের মাঝে পরিচিত হয়ে উঠছে। পরিচিতই নয়, এই শব্দটি বেশ ট্রেন্ডি হয়ে এসেছে এখন। একটা খোঁপা বা কোঁকড়ানো কেশসজ্জা করে, অথবা কখনো মুখে কিছুটা মেকআপ চড়িয়েই “মেকওভার করলাম” বলাটা ইদানিং বাতিকে রূপ নিয়েছে। কিন্তু আসলেই কি যেকোন অনুষ্ঠানের জন্য একটু গুছিয়ে তৈরি হওয়া এবং সাজাটাই মেকওভার? ভুলটা ভেঙ্গে নিন তবে। আপনার চিরায়ত সাজগোজের আয়োজনকে মেকওভার ভেবে নেবেন না। মেকওভার প্রচলিত অর্থে সেই ধারণা, যা কিনা আপনার একটি পরিবর্তিত অবস্থা নির্দেশ করবে। সবসময় যেভাবে সাজতে ভালোবাসেন, আপনার কেশবিন্যাসে সাধারণত যেমন ধারা অনুসরণ করেন বা যেমন পোশাক পরা হয় সাধারণত, তার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু যাচাই করে দেখাটাই হচ্ছে মেকওভার।

মেকওভারের খুঁটিনাটি

মেকওভারের খুঁটিনাটি-
মেকওভার বা এই রূপবদল আপনি যেকোন সময়ে করতে পারেন। আপনার ইচ্ছা অথবা কোন উৎসবের প্রয়োজনে নিজেকে সাজাতে পারেন সম্পূর্ণ নতুন কোন ভঙ্গিমায়। নিজের চিরচেনা ধারাটা ভেঙ্গে বেরিয়ে এসে নিজেকেই নতুন করে দেখার বিষয়টা সত্যিই মজাদার হবে।
মেকওভার এমন একটা বিষয় যা আপনি একদিনের জন্যেও ধারণ করতে পারেন, আবার চাইলে বেশ অনেকদিনের জন্যেও সেটা তুলে আনতে পারেন নিজের মধ্যে। সেটাও পুরোপুরি আপনার ইচ্ছা বা দরকার মতন হতে পারবে।
ধরে নিন, আপনার খুব বিশেষ একটি উপলক্ষ আছে সামনেই। অথবা কোন উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসছে। সেইদিনে নিজেকে নতুন রূপে নতুন সাজে দেখবেন বলে ভাবছেন। তবে এবার প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে দিন রূপবদলের জন্য!
চিরচেনা ছবি পাল্টে দেয়ার মানে কেবল এই নয় যে ভারী সাজপোষাকের আড়ালে আপনার এতোদিনের নিজের প্রতি অযত্নের ছাপ ঢেকে দিলেন। যদি অযত্ন করেই থাকেন এতোদিন, তবে এবার খানিক যত্ন নিন নিজের, সেটাও কিন্তু এক অর্থে মেকওভার হবে! খেয়াল রাখুন, সবাই আপনাকে অনেকগুলো দিন ধরে যা দেখেছে, যেমনটা তাদের কাছে আপনার চিত্র তৈরি হয়ে গেছে, সেটাকেই বদলে দিতে চলেছেন আপনি।
নিজের ছোটখাটো সব বিষয়েই বদল আনুন, যতোটা সম্ভব আপনার পক্ষে। মানুষের চেহারার ধরন অনেক বেশি করে তার কেশবিন্যাসের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যদি নিজের মেকওভারটা বেশ কয়েকদিন ধরে রাখবেন বলেই ভেবে থাকেন তবে পাল্টে ফেলুন আপনার চুলের বিন্যাস। একেবারে ভিন্ন কিছু বেছে নিন নতুন হেয়ার স্টাইলে, তবে অবশ্যই যেন তা আপনাকে মানিয়ে যায়।
এতোদিনের সাজগোজেও বৈচিত্র আনতে হবে এইবার। চড়া সাজে স্বস্তি পাওয়া মানুষেরা সাজের বহরে একটু রাশ টানুন। হালকা, প্রাকৃতিক ধাঁচের মেকআপে মনযোগী হতে পারেন। মনে রাখুন, এই বদলটাই কিন্তু আপনার উদ্দেশ্য ছিলো। যারা নিত্যদিনের আয়োজনে কখনোই ঠোঁটে রঙের কাঁঠি ছোঁয়ানো পছন্দ করেন না, তারা এবার মাঝে মাঝে লিপস্টিক ব্যবহারের অভ্যাস করে নিতে পারেন। বা গাঢ় কাজল যাদের সবসময়ের অনিবার্য সাজের অংশ হয়ে থেকেছে তারা কাজলের কারবার তুলে দিন কিছু সময়ের জন্য।
গয়নার ব্যাপারেও সেই এক কথা চলবে। যেমনটা আপনার ধরন ছিলো আগে, বদলাতে হবে সেটাই। নতুন ধরনের জিনিস বেছে নিন। যে গয়নাটি কখনো পরা হয়নি, সেটি এবার পরেই দেখুন না কেমন লাগে নিজেকে।
পোশাকের ক্ষেত্রে একটু বেশিই সতর্কতা প্রয়োজন হয়। কারণ এই জিনিষটা স্পর্শকাতর হয় বেশি। আপনার রুচি বা ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহনকারী হিসেবে অন্য যেকোন জিনিস থেকে পোশাক অনেক এগিয়ে। এই জায়গাতে পরিবর্তন আনুন রয়েসয়ে, অনেক ভেবেচিন্তে তবেই ভিন্ন পথে হাঁটুন। শাড়ি থেকে সালোয়ার-কামিজ বা সালোয়ার-কামিজ থেকে জিন্স-কুর্তায় নিজেকে গুছিয়ে নেয়াটা হয়তো অতো কঠিন নয়, তা আপনি সহজেই সামলে নিতে পারবেন। কিন্তু খুব বেশি ভিন্নতা আনতে যেয়ে এমন কিছু করে বসবেন না যাতে আপনারই কখনো অস্বস্তি হয়, বা সবার সামনে আপনার ব্যক্তিত্ব ম্লান হয়ে যায়। আপনিই ভালো বুঝবেন কোন কোন পোশাকে আপনার রুচি, ব্যক্তিত্ব এবং সৌন্দর্য ফুটতে পারে, নতুন পোশাকটাও বেছে নিন তার মধ্যে থেকেই।
মেকআপ এবং মেকওভারের পার্থক্য তো জানা হলো। এবার তবে চাইলেই করে নিন নিজের রূপবদল। চলতি ধারায় মন হারিয়ে নিজেকেই হারিয়ে ফেলবেন না যেনো, নিজেকে তেমনটাই সাজান যেমন আপনাকে মানিয়ে যাবে। তাহলে বহুদিনের পুরনো হোক বা আনকোরা নতুন, সব রূপসজ্জায় আপনি অসাধারণ হবেন, বিশ্বাস রাখুন!

মেকআপে চোখকে আকর্ষণীয় ও টানা টানা করার উপায়

সবার চোখ তো আর সমান নয়, কারও চোখ বড় আবার কারও আকারে ছোট। এক্ষেত্রে মেইকআপের কিছু কৌশল অনুসরণ করলে খুব সহজেই চোখের আকার বড় ও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।
রূপচর্চা বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে কীভাবে চোখ বড় ও আকর্ষণীয় দেখানো যায় সে বিষয়ে মেইকআপের সহজ কিছু উপায় তুলে ধরা হয়।

মেকআপে চোখকে আকর্ষণীয় ও টানা টানা করার উপায়

মেকআপে চোখকে আকর্ষণীয় ও টানা টানা করার উপায়-
# ভিতরের অংশে হালকা রংয়ের শ্যাডোঃ
চোখ বড় ও আকর্ষণীয় করে তুলতে চোখের ভিতরের কোণা থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত হালকা রংয়ের শ্যাডো ব্যবহার করতে হবে। কারণ চোখের কোণায় হালকা শ্যাডো চোখ দেখতে বড় দেখাবে। কারণ এতে চোখে ঘুম ঘুমভাব কেটে যায় এবং দেখতে ফ্রেশ লাগবে।
# ভ্রুর নিচে হাইলাইটারের ব্যবহারঃ
ভ্রুর ঠিক নিচে ‘ব্রাও বোন’-এর উপর হাইলাইট করে তুলতে হবে। এর জন্য হালকা শিমারি কোন আইশ্যাডো ব্যবহার করা যেতে পারে। ফোর্তে জানান, ওই শ্যাডোটি চোখের একদম ভিতরের কোণায়ও ব্যবহার করা যেতে পারে।
# চোখের নিচে কনসিলারের ব্যবহারঃ
কম বেশি সবার চোখের নিচেই কালি বা কালচেভাব থাকে। আর এই কালচেভাব চোখের সৌন্দর্য্য অনেকটাই ম্লান করে ফেলে। তাই চোখের নিচের কালি ঢেকে ফেলতে অবশ্যই কনসিলার ব্যবহার করতে হবে। চোখের চারপাশের কালচেভাবের কারণে চোখ ছোট মনে হয়। তাই ত্বকের রংয়ের থেকে কিছুটা হালকা টোনের কনসিলার ব্যবহার করে চোখের নিচের অংশ কনসিল করে নিতে হবে।
# সাদা বা হালকা রংয়ের কাজলের ব্যবহারঃ
চোখের নিচের ওয়াটার লাইনে সাদা বা ন্যুড রংয়ের কাজলের ব্যবহারের ফলে চোখ দেখতে বড় লাগে এবং ‘ড্রামাটিক’ একটি ভাব যুক্ত হয়।
# ঠোঁটে ন্যুড লিপস্টিকঃ
মেইকআপের সহজ শর্ত, চোখে গাঢ় মেইকআপ করা হলে ঠোঁটে হালকা বা ন্যুড লিপস্টিক পড়তে হবে। কারণ এতে করে চোখ বেশি আকৃষ্ট করবে সবাইকে।
# নকল পাপড়ির ব্যবহারঃ
চোখ অন্যের নজরে বড় দেখাতে নকল পাপড়ির জুরি নেই। তাছাড়া চোখে কয়েককোট মাস্কারাও চোখ বড় দেখাতে সাহায্য করে। তাছাড়া চোখে বাড়তি ‘ড্রামাটিক’ভাব ফুটিয়ে তুলতে ল্যাশ কার্লারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

চেহারার অসুস্থভাব ঢাকতে ৭টি মেকআপ

সব সময় শরীর সুস্থ থাকে না। আবার দীর্ঘসময় অসুস্থ থাকলে চেহারায় অসুস্থতার ছাপ পড়ে যায়। চোখ বসে যায়, গায়ের রং কালো হয়ে যায়। এমন সময় কোন অনুষ্ঠান থাকলে পড়তে হয় বিপদে! মুখের এই নির্জীব ত্বক লুকানোর জন্য বেশি করে ফাউন্ডেশন লাগানোটাই সমস্যার সমাধান নয়। বরং এই সময় নিজেকে সুন্দর রাখার সম্ভব সহজ কিছু টিপস মেনে।

চেহারার অসুস্থভাব ঢাকতে ৭টি মেকআপ

চেহারার অসুস্থভাব ঢাকতে ৭টি মেকআপ-

১। হালকা ফাউন্ডেশন

ভারী ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে হালকা কোন ফাউন্ডেশন লাগান। এতে ত্বক উজ্জ্বল দেখাবে। লিকুইয়েড ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে বিবি ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। বিবি ক্রিম হালকা ত্বকের সাথে সহজে মিশে যায়। এটি ত্বকের যেকোন দাগও ঢেকে দিয়ে থাকে।

২। নাকে কনসিলারের ব্যবহার

যদি আপনার ঠান্ডা বা সর্দি থাকে তাহলে নাকটা লাল হয়ে থাকে। নাকের ডগা লালচে হয়ে যায়। এই সমস্যার সমাধানের জন্য নাকে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান। তার উপরে হালকা করেকনসিলার লাগান যাতে নাকের লাল ঢেকে যাবে।

৩। চোখের ফোলাভাব দূর করুন

ভাইরাল জ্বরের ফলে আপনার চোখের নিচে ফুলে যেতেপারে, ডার্ক সার্কেল পড়ে যেতে পারে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চোখের নিচে ঠান্ডা টি ব্যাগ ১৫ মিনিট দিয়ে রাখুন। চোখের ফোলাভাব এক নিমিষে গায়েব হয়ে যাবে।

৪। গাঢ় রংয়ের লিপস্টিক

শরীর অসুস্থ হলে মুখ অনুজ্জ্বল হয়ে যায়। এই সময়হালকা রংয়ের লিপস্টিক, লিপগ্লস ব্যবহার চেহারার মলিনতা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই এই সময় গাঢ় রং এর লিপস্টিক ব্যবহার করা উচিত। এটি আপনার চেহারা উজ্জ্বল দেখানোর সাথে সাথে আপনাকে ক্লাসি একটা লুক প্রদান করবে।

৫। প্রচুর পানি পান করুন

অসুস্থ হলে ত্বক, চুল এমনকি শরীর শুষ্ক হয়ে যায়। তাই এইসময় প্রচুর পানি পান করা উচিত। আর বাহ্যিক শুষ্কতা দূর করার জন্য নিয়মিত ময়োশ্চারাইজার লাগানো উচিত।

৬। কালো কাজল ব্যবহার না করা

আইলাইনার বা কাজল হিসেবে কালো রং ব্যবহার না করে গাঢ় রং ব্যবহার করা উচিত। তা হতে পারে সবুজ বা নীল। মোটা করে না লাগিয়ে সরু করে কাজল বা আইলাইনার লাগানো উচিত। এতে আপনার চোখ উজ্জ্বল দেখাবে। চেহারার ফ্যাকাসে ভাবও ঢেকে যাবে অনেকখানি।

৭। কার্লারের ব্যবহার

চোখের পাতাকে ঘন দেখাতে মোটা করে মাসকারালাগান এবং আইল্যাশ কার্লার দিয়ে চোখের পাতা কার্লকরে নিন। এতে চোখের পাতা ঘন ও কালো দেখাবে।

ঘরে গোলাপ জল তৈরির পদ্ধতি

প্রাচীন কাল থেকেই খাবারে ও রূপচর্চায় গোলাপজল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন এই গোলাপ জল। খুব সহজেই গোলাপ জল তৈরি করা যায় ঘরে। আসুন জেনে নেয়া যাক ঘরে গোলাপ জল তৈরির প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সেই পদ্ধতিটি-
১/ একটি তাজা গোলাপ থেকে শুধুমাত্র পাপড়ি গুলো নিয়ে নিন।[wp_ad_camp_2]
২/ গোলাপের পাপড়ি গুলো ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন।
৩/ একটি পাত্রে পাপড়ি গুলো রেখে সেখানে ফোটানো বিশুদ্ধ পানি ঢালুন। খুব বেশি পানি দেবেন না। কেবল মাত্র পাপড়ির ওপর       পর্যন্ত পানি দেবেন।
৪/ এরপর পাত্রটিকে মাঝারী আঁচে ঢাকনা দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন।
৫/ গোলাপের পাপড়ি রঙ হারালে এবং পানির উপরে হালকা তেল ভেসে উঠলে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন।
৬/ গোলাপ জল ঠান্ডা করে একটি বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিলে দীর্ঘ দিন ভালো থাকে।

আমাদের পেজে লাইক দিতে ভুলবেন না।

কিছু বিবি (BB ) ক্রিমের আলোচনা

কিছু বিবি (BB ) ক্রিমের আলোচনা

বিবি ক্রিম এখন নিউ ট্রেন্ড। ফাউন্ডেশন প্রতিদিন ব্যবহার করা যায় না। ফাউন্ডেশনের বদলে প্রতিদিন আমরা বিবি ক্রিম ব্যবহার করতে পারি। তাছাড়া বিবি ক্রিম হল মাল্টি পারপজ ক্রিম। খুব বেশিদিন হয়নি বিবি ক্রিম জন্মের। মাত্র কয়েক বছর। এর মধ্যেই বিবি ক্রিম বিশাল সারা ফেলেছে মেক-আপ জগতে। বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া তে বিবি ক্রিম এসেছে ২০১২ তে। প্রধানত ইন্ডিয়া থাইল্যান্ড, চায়না তে তৈরি বিবি ক্রিম আমাদের দেশে পাওয়া যায়। তার মধ্যে সব চেয়ে বেশি চলে Garnier, Lakme, Ponds, Maybelline ইত্যাদি।[wp_ad_camp_2]
বিবি ক্রিম কি ?
১৯৫০ সালে জার্মানির ডারমাটলজিস্ট ক্রিস্টিন বিবি ক্রিমের কথা চিন্তা করেছিলেন। এমন কিছু যা ত্বকের সকল প্রয়োজন পূরণ করবে। বিবি ক্রিমের অর্থ হলো বিউটি বাম যেটা মুখের দাগ, রেডনেস, সানস্ক্রিনের প্রয়োজন মেটাবে। কোরিয়াতে বিবি ক্রিম চলছে প্রায় ৩০ বছর ধরে। মোটামুটি কোরিয়ান বিবি ক্রিম সব চাইতে ভালো। কোরিয়ান মার্কেটে এতো বেশি জনপ্রিয়-ও হয়েছে যে এটা পরে আমেরিকা থেকে এশিয়াতে এসেছে।
বিবি ক্রিম এর কাজ ?
০১. বিবি ক্রিমে ময়েশ্চারাইজার থাকবে।
০২. মুখের সব ইম্পারফেক্সন দূর করবে।
০৩. মুখের বেস অথবা প্রাইমারের কাজ করবে।
০৪. কম হলেও SPF ২০ মানের সানস্ক্রিন থাকবে।
০৫. মুখের কন্সিলারের কাজ করবে।
০৬. মুখের বলিরেখা দূর করবে।
০৭. ফাউন্ডেশনের কাজ করবে।
Garnier BB cream miracle skin perfector :
এই বিবি ক্রিম কেনার আগে, আমি একেক জনের কাছ থেকে একেক রকম মন্তব্য শুনেছি। কেউ বলে শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালো, আবার কেউ বলে তৈলাক্ত  ত্বকের জন্য ভালো। কিন্তু আমার মতে এটা তৈলাক্ত অথবা কম্বিনেশন ত্বকের জন্য ভালো। এই বিবি ক্রিম সিয়ার থেকে লাইট কভারেজ দিবে। মুখের বেস তৈরি করার জন্য এই ক্রিম ভালো, কিন্তু যাদের রঙ কালো, তাদের জন্য হয়তো বা এই ক্রিম ম্যাচ করবে না। Garnier BB cream এর একটাই শেড আছে। এই বিবি ক্রিমটি দিলে প্রথমে একটু ফর্সা লাগলেও পরে অক্সিডাইজ করে। তাছাড়া আমাদের দেশে প্রচুর গরম পড়ে, এই বিবি ক্রিম গরমের জন্য একদম ই “না”। কারণ বাইরে ৩/৪ ঘণ্টা থাকার পর মুখ অক্সিডাইজ করে কালো লাগে। সম্ভবতও এটি শীতের জন্য ভালো হবে। কিন্তু যেকোনো ময়েশ্চারাইজার দেয়ার পর এটি দিতে হবে।
প্রতিদিনের হালকা মেক-আপের জন্য এই বিবি ক্রিম ভালো। কিন্তু এটির নাম Garnier BB cream miracle skin perfector এর সাথে সার্থকতা বজায় রাখতে পারেনি। কোনই “miracle” ঘটায় না। তাছাড়া বিবি ক্রিমে সানস্ক্রিন থাকতে হয়, এটায় এস পি এফ ২৪ আছে, যারা কলেজ অথবা অফিসে যান , তারা ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু ৩/৪ ঘণ্টা পর একটু টাচ আপ দিতে হবে। কন্সিলার এবং ফাউন্ডেশন কোন গুনাগুণ এর মধ্যে নেই। দাম পড়বে ২৩৫-৪৫০ ( সাইজ অনুযায়ী দাম হবে )।
Ponds white beauty cream ++ :

এই বিবি ক্রিম লেটেস্ট বাজারে ছাড়ল পন্ডস কোম্পানি। আমার কাছে গারনিয়ার এর থেকে পন্ডস অনেক গুণ বেশি ভালো লেগেছে। এটার শেড একটা হলেও সব স্কিন কালারের সাথে ভালো মানায়। এটি অনেক লাইট, ভালো ভাবে ব্লেন্ড হয়। লাইট থেকে মধ্যম মানের কভারেজ দেয়। মুখের ছোট দাগ, রেডনেস কভার করলেও, বড় দাগ গুলোর জন্য আলাদা ভাবে ক্রিম নিয়ে কন্সিল করতে হয়। একদম-ই ন্যাচারাল ফিনিশিং দেয় এবং সব চেয়ে ভালো ব্যাপার হল এটা মুখ কে অক্সিডাইজ করে না। তাছাড়া এটি তে SPF 30 PA ++ আছে। মোটামুটি বিবি ক্রিমের সব গুনাগুণ এর মধ্যে আছে। এটি মোটামুটি সব ত্বকেই সুট করবে। তবে নরমাল, কম্বিনেশন ত্বকের জন্য বেশি ভালো। তৈলাক্ত  ত্বক হলে  ৩/৪ ঘণ্টা পর টাচ আপ দিতে হবে। আর শুষ্ক ত্বক হলে আগে যেকোনো ময়েশ্চারাইজার দিয়ে নিবেন। দাম পড়বে ২৮০ টাকা।



Maybelline Clear glow BB cream :

এই বিবি ক্রিমের সব চাইতে ভালো দিক হলো এর তিনটা শেড আছে। তাই যে কেউ তার গায়ের রঙ অনুযায়ী শেড ম্যাচ করতে পারবে। কিন্তু এটি তৈলাক্ত  ত্বকের জন্য ভালো না। শুষ্ক অথবা কম্বিনেশন ত্বকের জন্য ভালো। তাছাড়া এটি তে SPF 21 PA ++ আছে। এটি অন্যান্য বিবি ক্রিমের থেকে ঘন, তাই ব্লেন্ড করতে একটু কষ্ট হবে। মোটামুটি ৮ ঘণ্টা মুখে থাকবে। যারা বাইরে অনেকক্ষণ থাকেন, তারা এটি ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে এটি দেয়ার পর মুখ একদম সাদা হয়ে গেলেও , পরে এটি ন্যাচারাল হয়ে যায়। মুখ অনেক উজ্জ্বল লাগে। মুখের কালো দাগ, রেডনেস দূর করে। এটির কভারেজ ভালো কিন্তু ফাউন্ডেশনের মত কভারেজ দিবে না। প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য উপযোগী।
বি বি ক্রিম কিভাবে দিবেনঃ
আমি মনে করি বিবি ক্রিম ব্রাশের চেয়ে হাত দিয়ে দেয়াই ভালো। পুরো মুখে ডট ডট করে ক্রিম লাগিয়ে, হাত দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করবেন। ফিনিশিং আসার পর যদি মুখে রেডনেস, কালো দাগ, চোখের নিচে কালো দাগ দেখা যায় তাহলে শুধু মাত্র ওই জায়গায় এবার বিবি ক্রিম দিয়ে হাতের আঙ্গুল দিয়ে হালকা করে ডেব করে ব্লেন্ড করবেন।
আশা করি পোস্টটি ভালো লাগবে।

ফেসিয়াল করার সঠিক নিয়ম

সারা বছরই আমাদের ত্বকের যত্ন নিতে হয়। কিন্তু গরমের সময়টায় ত্বকের যত্ন নেয়াটা হয়ে যায় বাধ্যতামূলক। এই সময়ে ময়শ্চারাইজ়ারও মাখা যায় না। তাই গরমকালে ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে বাড়তি যত্ন নিতেই হবে।
আমরা মনে করি ত্বকের পরিচর্যার জন্য হয়তো অনেক কিছু প্রয়োজন। আসলে কিন্তু তা নয়। আমরা রান্নাঘর বা ফ্রিজ থেকেই পেতে পারি প্রয়োজনীয় উপকরণ যা দিয়ে ধরে রাখতে পারি প্রতিদিনের সুন্দর ত্বক।
ঘরোয়া জিনিস ব্যবহার করে কীভাবে ফেসিয়াল করব, আর কোন ত্বকে কোন ফেসিয়াল ভাল হবে সেটা আগে জেনে নিই ওমেন্স ওয়ার্ল্ডের পরিচালক রূপবিশেষজ্ঞ ফারনাজ আলমের কাছে।
চট জলদি রূপচর্চার বেশ কিছু উপায় বাতলে দিলেন ফারনাজ। এখন যে কোনোটি ট্রাই করুন:
ফেসিয়ালের ধাপগুলো এভাবে অনুসরণ করুন,

ফেসিয়াল করার নিয়ম

ক্লিঞ্জিং
প্রথমে ক্লিঞ্জিং দিয়ে মুখ ধোয়ার পূর্বে প্রথমে গরম ভাপ নিয়ে নিন। এটি আপনার মুখের লোমকুপগুলো খুলে দিতে সাহায্য করবে। ভাপ নেয়া হয়ে গেলে ক্লিঞ্জার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন ভালো করে। দুধে তুলা ভিজিয়ে ত্বক পরিস্কার করে নিতে পারেন।
ক্রিম ম্যাসাজ
ফেসিয়াল ক্রিম দিয়ে ১০ মিনিট ত্বকে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে নিন।
স্ক্র্যাবিং
এবার স্ক্র্যাব দিয়ে মুখ আলতো ভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘষুন। তারপর উষ্ণ তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে ফেলুন। উজ্জ্বল ত্বকের জন্য চালের গুঁড়া, সুজি অথবা চিনি হতে পারে সবচেয়ে ভালো স্ক্র্যাব।
টোনিং
সমপরিমাণ ভিনেগার ও গোলাপ জল মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন টোনার। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে খুবই উপযোগী। তুলা দিয়ে টোনার মুখে লাগান কিন্তু ভুলেও ঘষবেন না। চোখের কাছে লাগাবেন না।
এই পর্যায়ে ফেসিয়াল যে কোনো একটি মাস্ক প্রস্তুত করুন।
একটা শসা কুড়িয়ে, সেটা থেকে রসটা বের করে এক চামচ চিনি ভাল করে মিশিয়ে কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে দিন। ত্বকে মেখে দশ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন। শসার রস ত্বককে হাইড্রেট করে, ফলে ত্বক অনেক মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়।
দু’চামচ মসুর ডাল সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে মসুর ডাল বেটে তার মধ্যে অল্প দুধ ও আমণ্ড তেল মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এই প্যাকটা মুখে মেখে দশ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার পানি দিয়ে ঘষে ঘষে ধুয়ে নিন।
শসার রস, এক কাপ ওটমিল ও এক টেবিল চামচ দই একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার এই মিশ্রণটা পুরো মুখে মেখে তিরিশ মিনিট রেখে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিন।
একটা ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে এই মিশ্রণটা ২০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন।
আজকাল সারা বছর টমেটো পাওয়া যায়। একটি টমেটো ভাল করে চটকে নিন। সঙ্গে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই প্যাক নিয়মিত ব্যবহারে আমাদের ত্বকের দাগগুলো সব মিলিয়ে যাবে।
ফুটন্ত গরম পানিতে ১ চামচ গ্রিন টি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। ১টি বাটিতে ২ চামচ মুলতানি মাটি নিন। তাতে ২-৩ চামচ গ্রিন টি ভেজানো পানি মেশান। অ্যালোভেরার আবরণ সরিয়ে রস বের করে নিন। এবার মুলতানি মাটি ও গ্রিন টির মিশ্রণে মিলিয়ে নিন। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন, তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
বাহ! দেখুন তো আয়নায়, স্টোরিটা পড়েই কেমন যেন উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন, এবার ঝটপট শুরু করুন।
ট্যাগস – ফেসিয়াল, ফেসিয়াল ক্রিম, ফেসিয়াল করার নিয়ম, ফেসিয়াল মাস্ক, ফেসিয়াল স্ক্রাব, ফেসিয়ালের নিয়ম, ফেসিয়াল টিপস, ফেসিয়াল করার উপায়, ফেসিয়াল কি, ফেসিয়াল প্যাক, ফেসিয়াল করা, গোল্ড ফেসিয়াল, ছেলেদের ফেসিয়াল, হারবাল ফেসিয়াল, ফ্রুট ফেসিয়াল, ঘরোয়া ফেসিয়াল, পার্ল ফেসিয়াল, চকলেট ফেসিয়াল, অরেঞ্জ ফেসিয়াল, হোয়াইটেনিং ফেসিয়াল সুত্র : বিডিনিউজ২৪

নিজেই বানান ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফেস পাউডার

মেকআপের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ হল ফেস পাউডার। চোখে কাজল, ঠোঁটে লিপস্টিক এবং হালকা ফেস পাউডার দিয়ে অনেকেই সাজ শেষ করেন। বাজারের ফেস পাউডার ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। আপনি যত দামী ব্র্যান্ডের ফেস পাউডার ব্যবহার করেন না কেন, বাজারের কোন ফেস পাউডারই রাসায়নিক উপাদানমুক্ত নয়। প্রতিদিন ফেস পাউডার ব্যবহারে এর কেমিক্যালগুলো আপনার ত্বকে ধীরে ধীরে ক্ষতি করে। এই ক্ষতির হাত থেকে মুক্তি পেতে চান? নিজেই তৈরি করে নিন নিজের ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফেস পাউডার।
নিজেই বানান ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফেস পাউডার-

নিজেই বানান ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ফেস পাউডার

হালকা শেডের ফেস পাউডার তৈরির উপায়
যা যা লাগবে:
২ চা চামচ অ্যারারুট পাউডার অথবা কর্ণস্টার্চ পাউডার
১/৪ চা চামচ কোকো পাউডার (কফি পাউডার ব্যবহার করতে পারেন)
১/৬ চা চামচ দারুচিনির গুঁড়ো
কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল
মাঝারি শেডের ফেস পাউডার তৈরির উপায়
যা যা লাগবে:
৩ চা চামচ অ্যারারুট পাউডার অথবা কর্ণস্টার্চ পাউডার
১.৫ চা চামচ কোকো পাউডার
১/৪ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো
কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল
গাঢ় শেডের ফেস পাউডার তৈরির জন্য
যা যা লাগবে:
২ চা চামচ অ্যারারুট পাউডার অথবা কর্ণস্টার্চ পাউডার
২.৫ চা চামচ কোকো পাউডার
১/৪ চা চামচ দারুচিনির গুঁড়ো
কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল
যেভাবে তৈরি করবেন:
১। প্রথমে অ্যারারুট পাউডারের সাথে দারুচিনির গুঁড়ো মেশান। আপনার পছন্দ শেডের জন্য পরিমাণমত কোকো পাউডার এবং দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিন।
২। এরসাথে এসেনশিয়াল অয়েল মেশান। খুব বেশি পরিমাণ এসেনশিয়াল অয়েল মেশাবেন না।
৩। ফেস পাউডার দীর্ঘ সময় ত্বকে ধরে রাখার জন্য এরসাথে এক দুই ফোঁটা ভিটামিন ই অয়েল মেশাতে পারেন।
৪। ঘন তুলির ব্রাশ দিয়ে ফেসপাউডার ত্বকে ব্যবহার করুন।

ঝলমলে সুন্দর চুলের জন্য মুলতানি মাটির ৪ হেয়ার প্যাক

আদিকাল থেকে রূপচর্চায় মুলতানি মাটি ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে, দাগ দূর করতে মুলতানি মাটি ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। এটি ত্বক পরিষ্কার করে কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়া। অতি পরিচিত এই মাটি শুধু ত্বক নয়, চুল পরিচর্যাতেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এটি চুল পরিষ্কার করার সাথে সাথে চুল মুজবুত করতে, খুশকি দূর করে চুলকে আরও সুন্দর ও সাস্থ্যজ্জল করে থাকে। এছাড়া স্কাল্পের অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে।

মুলতানি মাটির ৪ হেয়ার প্যাক

আসুন জেনে নিই, মুলতানি মাটি ব্যবহার করে চুলের কিছু প্যাক।
শুষ্ক চুলের জন্য
৪ চা চামচ মুলতানি মাটি, ১/২ কাপ টক দই দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি চুলে ভাল করে লাগান। ১/২ ঘণ্টার পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এটি চুল পড়া রোধ করার সাথে সাথে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসাবে কাজ করে থাকে। এই প্যাকটির সাথে লেবুর রস যুক্ত করতে পারেন। লেবুর রস আপনার চুলের খুশকি দূর করে থাকে। ২ টেবিল চামচ মধু যোগ করে নিতে পারেন চুলকে ঝরঝরে সিল্কি করার জন্য।
তৈলাক্ত চুলের জন্য
 একটি বাটিতে ৩/৪ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি, ১/২ টেবিলচামচ রিঠা পাউডার মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে রাখুন। প্যাকটি মিশিয়ে ১ /২ ঘন্টা রেখে দিন। তারপর চুলের গোড়াসহ পুরো চুলে ভালভাবে লাগান। ১০/১৫ মিনিট পর তা ভাল করে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এই প্যাকটি আপনার চুলকে সিল্কি এবং মজবুত করবে।
রুক্ষ্ম চুলের জন্য
রুক্ষ্ম চুল সিল্কি করার জন্য মুলতানি মাটি খুব ভাল কাজ করে। শ্যাম্পু করার আগের রাতে চুলে অলিভ অয়েল দিয়ে রাখুন। সকালে গরম পানিতে ভেজানো টাওয়েল দিয়ে চুল পেঁচিয়ে রাখুন ১ ঘণ্টা। এরপর মুলতানি মাটি, টক দই দিয়ে তৈরি প্যাক চুলে লাগান। প্যাকটি শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে চুল ধুয়ে ফেলুন। ভাল ফল পেতে এই প্যাকটি প্রতি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করুন।
চুল মজবুত করতে
১ কাপ মুলতানি মাটি, ৫ চা চামচ চালের গুঁড়া, ১ টি ডিমের সাদা অংশ, অল্প কিছু পানি দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিন। এরপর প্যকটি চুলের গোড়াসহ সম্পূণ চুলে ভাল করে লাগান। প্যাকটি শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার চুলের গোড়া মজবুত করে থাকে।
মুলতানি মাটির প্যাক ব্যবহারে আগে চুল খুব ভাল ভাবে আঁচড়ে নিতে হবে। ভাল ফল পেতে চাইলে আগের রাতে চুলে তেদিয়ে রাখা ভাল।
রেফারেন্স
4 Amazing Multani Mitti Packs For Healthy Hair- stylecraze.com
লেখাটি পছন্দ হইলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
নিয়মিত সুন্দর সুন্দর টিপস পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ এ অ্যাক্টিভ থাকুন।

চুল পড়া রোধের কিছু কার্যকরী টিপস

চুল যখন পড়তে শুরু করে তখন আমাদের কষ্টের আর শেষ থাকে না।সাধারণভাবেই প্রতিদিন কিছু না কিছু চুল ঝরে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন একশ’টা চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে চুল পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
চুল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাথায় নতুন চুলও গজায়। তবে যদি চুল যদি বেশি পরিমাণে পড়ে, অর্থাৎ চুল পড়ার হার যদি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয় তাহলে তা শঙ্কার কথা। কাজেই চুল বেশি পড়লে বিষয়টিতে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

নানা কারণেই আমাদের মাথার চুল পড়ে।  চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো না হলে, অ্যানিমিয়া থাকলে, মানসিক স্ট্রেস-টেনশন, চুলে খুশকি, বড় কোন অসুখে ভুগলে, বেশি মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেলে ইত্যাদি নানা কারণেই চুল ঝরে পড়ে। ফলে মাথার চুল পাতলা হয়ে যায়।
চুল পড়া রোধ করতে প্রথমেই আপনাকে জানতে হবে কী কারণে আপনার চুল পড়ছে। কারণটা খুঁজে বের করে আগে সেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তখন আপনা-আপনিই চুল পড়া বন্ধ হবে।

চুল পরা রোধ করনীয়


চুল পড়া রোধ করতে হলে অবশ্যই এর কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করা প্রয়োজন। নিজে নিজে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিচে চুল পড়া রোধের কিছু  টিপস দেওয়া হলো-
১।ধূমপান ত্যাগ করুন।এর কারনে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় , রক্ত নালিকাগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয় । এর কারনে চুল পড়া বেড়ে যায় এবং চুল বাদামি বর্ণ ধারন করে ।
২। অতিরিক্ত চা বা কফি পান করবেন না। চা বা কফিতে ক্যাফেইন থাকে যা সকল প্রকার চুল ও স্কিনের সমস্যার জন্য দায়ী, তাই মাত্রাতিরিক্ত চা, কফি পান করবেন না।
৩। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় শরীরে আয়রনের অভাবে চুল পড়ে। আয়রনের অভাবে আমাদের দেহে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা কমে যায়, যা আমাদের চুলের গোড়ার (হেয়ার ফলিকল) জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি তাই হয়, তাহলে প্রচুর পরিমাণে লাল শাক, কচুশাক খেতে হবে।
৪। ভিটামিন-ই চুল পড়া রোধে ও নতুন চুল গজানোর ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী, তাই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি খান। ভিটামিন-ই চুলের ত্বকে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয় যা চুল বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে এটি চুল পড়া রোধ করে।
ভিটামিন-ই এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ক্ষতিকারক ফ্রি র‌্যাডিকেল অপসারণের মাধ্যমে স্কিনকে সুরক্ষিত রাখে। নাশপাতি, বাদাম ও জলপাই তেলে প্রচুর ভিটামিন-ই থাকে। অন্যদিকে ভিটামিনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক উৎস হচ্ছে গম, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, সবজি, ডিম প্রভৃতি।
৫। স্বাস্থ্যকর খাবার বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার শুধু যে চুল শক্ত করে তা নয়, চুল গজাতেও সহায়তা করে। এছাড়া অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবারও পরিহার করুন।
৬। ওমেগা- থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড চুল পড়া রোধে খুব কার্যকর। সাধারণত বিশেষ ধরনের মাছে এই উপাদানটি থাকে। তবে আমাদের দেশে এসব স্যামন, ম্যাকারেল মাছ পাওয়া যায় না। প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড তিসির তেলে পাওয়া যায়। আর এই তেল পাবেন স্থানীয় বাজারেই। মনে রাখবেন, এই তিসির তেল কিন্তু মাথায় লাগানোর জন্য নয় অথবা রান্নায় ব্যবহার করার জন্যও নয়। প্রতিদিন ২ চা চামচ তিসির তেল সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। তাহলেই আপনার চুল পড়া অনেক কমে আসতে পারে। এছাড়া প্রচলিত চুল সুরক্ষার তেল ব্যবহার করার মাধ্যমেও চুলের প্রতি যত্নশীল হোন।
৭। নতুন চুল গজাতে উদ্দীপনা দেবার জন্য প্রতি সপ্তাহে চুলের ত্বক ম্যাসেজ করুন।
৮। চুলে অপ্রয়োজনীয় ঘষা-মাঝা, অতিরিক্ত আচরানো পরিহার করুন। গরম পানি, ড্রায়ার বা এমন কিছু ব্যবহার করবেন না যা চুলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে।
৯। চুলকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
১০। পর্যাপ্ত ঘুমান এবং বিশ্রাম নিন, কেননা ঘুম ও বিশ্রাম নতুন চুল গজানো ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়তা করে।
টিপস
** চুল পড়া বন্ধ করতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল খান অথবা ই ক্যাপ নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে হালকা গরম করে চুলে লাগান। ক্যাস্টর অয়েল তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যাবহার করতে পারেন।চুল পরা কমে যাবে।
**যেসব চুলের গোরা চটচটে ও উপরিভাগ রুক্ষ সেসব চুল সাধারনত মিশ্র প্রকৃতির চুল।এরকম চুলে সপ্তাহে অন্তত 3 দিন শ্যাম্পু করুন ও কন্ডিশনার ব্যাবহার করুন।শ্যাম্পুর আগে কুসুম গরম তেলে লেবুর রস মিশিয়ে হালকা মাসাজ করে নিবেন।চুল ভাল থাকবে।

নিখুঁত সুন্দর ত্বকের জন্য জাদুকরী ফর্মুলা

সুন্দর ত্বকের জন্য এটা-সেটা মুখে কত কিছুই তো মাখেন আপনি। কিন্তু জানেন কি, এইসব রাসায়নিক দ্রব্য আপনার ত্বকের কি ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে? এইসব পণ্য মেখে ত্বক তো সুন্দর হয়ই না, উল্টো টাকা খরচের পাশাপাশি উল্টো বুড়িয়ে যেতে থাকেন আপনি। কী করবেন? জেনে নিন খুব অল্প চেষ্টায় নিখুঁত সুন্দর ত্বক পাবার একটি জাদুকরী ফর্মুলা।
শিখে নিন মাত্র ৩টি উপাদান মিশিয়ে একটি দারুণ ক্রিম তৈরি করার উপায়। এই দারুণ ফর্মুলা আপনার ত্বককে রাখবে সুন্দর ও টানটান, শুষ্কতা দূর করবে, তেলতেলে হতে দেবে না এবং আপনার সুন্দর চেহারায় একদম পড়তে দেবে না বয়সের ছাপ ।
নিখুঁত সুন্দর ত্বকের জন্য জাদুকরী ফর্মুলা-

নিখুঁত সুন্দর ত্বকের জন্যজাদুকরী ফর্মুলা

ক্রিম তৈরি করতে যা যা লাগবে

  • একদম বিশুদ্ধ নারিকেল তেল ১/২ কাপ (ঘরে তৈরি হলে ভালো)
  • ১ টেবিল চামচ তরল ভিটামিন ই (ক্যাপসুল কিনে ভেতরের তরল বের করে নেবেন)
  • কয়েক ফোঁটা ল্যাভেনডার এসেনশিয়াল অয়েল ( বিদেশী কসমেটিক্সের দোকানে পাবেন। বা দোকানে বললে তাঁরা এনে দেবে। এসেনশিয়াল অয়েলের দাম একটু বেশী মনে হলেও এক বোতল দিয় অনেক বার ক্রিম তৈরি করতে পারবেন। তাই খরচ একদম বেশী হবে না)।

তৈরি ও ব্যবহার প্রণালি

এই সমস্ত উপাদান একত্রে মিশিয়ে নিন। তারপর কাজের কৌটায় ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। সূর্যের আলো লাগতে দেবেন না।
একবার তৈরি করলে অনেকদিন ব্যবহার করতে পারবেন।
সকালে ও সন্ধ্যায় মুখে ম্যাসাজ করে এই ক্রিম লাগান। একদমই অল্প পরিমাণ নেবেন, ভালো জিনিস কখনোই বেশী ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।
কয়েকদিন নিয়মিত ব্যবহার করলেই দেখবেন যে আপনার এতদিন ব্যবহার করা ময়েসচারাইজার থেকে অনেক ভালো ফল পাচ্ছেন।

যেভাবে কাজ করে এই ক্রিম

  • শুষ্ক ত্বককে যেমন কোমল করে তুলবে এই ক্রিম, তেমনই তেলতেলে ত্বককে আরও তেলতেলে না করেই কোমল করে তুলবে।
  • নারিকেল তেল প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসাবে কাজ করে, তাই আপনি থাকবে সূর্যের অত্যাচার মুক্ত।
  • ভিটামিন ই ত্বককে টানটান রাখতে ও ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে খুবই কার্যকর।
  • এছাড়াও ভিটামিন ই ও ল্যাভেন্ডার ক্ষতিগ্রস্থ ত্বককে সারিয়ে তোলে।
  • নারিকেল তেলের আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল গুণাবলী, যা ত্বকের হরেক রকম সমস্যা দূরে রাখে।
  • শরীরের অন্যান্য স্থানের ত্বকেও লাগাতে পারেন এই ক্রিম। স্ট্রেচ মার্ক দূর করতেও দারুণ কার্যকর।